রাজধানী সিউলে অবস্থিত নিজেদের একটি গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কেন্দ্রকে এ ফ্যাক্টরিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে কৃত্রিম পরিবেশের বাড়ি ও কারখানা লাইনে শত শত রোবট পরিচালনা করে বাস্তবসম্মত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। মূলত রোবটদের কাজের দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তা বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, সিউলের ইয়াংজে এলাকায় প্রায় ৩৩ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে চার তলাবিশিষ্ট এ তথ্য উৎপাদন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হবে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই সেখানে প্রাথমিকভাবে ১০০টি ‘সিএলওআইডি’ নামের রোবট নিয়োজিত করার পরিকল্পনা রয়েছে এলজির। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ সংখ্যা বাড়িয়ে তিনশতে উন্নীত করা হতে পারে। কেন্দ্রটিতে রোবটগুলো প্রতিনিয়ত ঘরের নানা কাজ এবং কারখানার উৎপাদন লাইনের দায়িত্ব পালন করবে। এর মাধ্যমে তারা বাস্তব পরিবেশের বিভিন্ন তথ্য ও অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করতে পারবে।
এলজি ইলেকট্রনিকসের এক কর্মকর্তা এ মহাপরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত বিনিয়োগের পরিমাণ এবং উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে তিনি জানান। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ রোবোটিকস প্রকল্পে ২৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে পারে এলজি। এ পুরো কার্যক্রম সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন এলজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লিউ জে-চেওল।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে উন্নত রোবট তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তব জগতের প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব। চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইন্টারনেট থেকে সহজেই লেখা ও ছবি ব্যবহার করে শিখতে পারে। কিন্তু একটি রোবট শুধু ইন্টারনেট দেখে কাপ ধরা বা দরজা খোলার মতো শারীরিক কাজগুলো শিখতে পারে না। এর জন্য রোবটটিকে নিজে বারবার সেই কাজগুলো করতে হয় এবং তা রেকর্ড করে শিখতে হয়।
এ সংগৃহীত তথ্য রোবটের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। চলতি বছরের শুরুতে এক প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে এলজির এ রোবট ধীরগতির কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। তখন এলজি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, বড় পরিসরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালের মধ্যে এ গৃহস্থালি রোবট বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এতদিন শুধু রোবটের হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রাংশ তৈরিতে মনোযোগ দিলেও এই ডেটা ফ্যাক্টরির মাধ্যমে এলজি এখন রোবটের মূল মস্তিষ্ক বা সফটওয়্যার উন্নত করার দিকে জোর দিচ্ছে। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড